1. admbm8z3m@example.com : admbm8z3m :
  2. admin@dainikdeshkanthaswar.com : admin :
  3. administrator_aa6faeec92@dainikdeshkanthaswar.com : administrator_aa6faeec92 :
  4. bot@local.invalid : Service Bot :
  5. dainikdeshkanthaswarnl@outlook.com : gujzamuw :
  6. lark37655@dainikdeshkanthaswar.com : lark37655 :
  7. dainikdeshkanthaswarqg@outlook.com : lesabken :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

২৪ বছরেও চালু হলো না কলমাকান্দার কালচার একাডেমি, চুরি গেছে টিন—গ্রিল

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৫ দেখা হয়েছে
২৪ বছরেও চালু হলো না কলমাকান্দার কালচার একাডেমি, চুরি গেছে টিন—গ্রিল
২৪ বছরেও চালু হলো না কলমাকান্দার কালচার একাডেমি, চুরি গেছে টিন—গ্রিল

কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিনাহালা এলাকায় নির্মিত ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর কালচার একাডেমি ও শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ভবনটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষে। সংস্কৃতি বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত এই স্থাপনা আজ শুধুই সময় ও দায়িত্বহীনতার নীরব সাক্ষী। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও চালু হয়নি এর কোনো কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩—২০০৪ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই একাডেমি ও হোস্টেল ভবনটি নির্মাণ করে। এর আগে ১৯৯৬—৯৭ সালের দিকে চিনাহালা মৌজায় শতীষ চন্দ্র মল্লিক গং এর মালিকানাধীন একাধিক দাগ থেকে প্রায় এক একর ৮৮ শতক (স্থানীয় হিসাবে প্রায় ২৩.৫০ কাঠা) ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি দাতা শতীষ চন্দ্র মল্লিক জানান, “আমাদের মালিকানাধীন ভূমি থেকে প্রায় এক একর ৮৮ শতক জমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নামে সাব—কাওলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে।” প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্থাপনায় পাকা এঙ্গেলসেটের ওপর টিনশেড ঘর তৈরি করা হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর সংস্কৃতি চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অযত্নে ভবনের দেয়াল জীর্ণ হয়ে গেছে এবং চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। টিন, এঙ্গেল, গ্রিলসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী অনেক আগেই দুর্বৃত্তরা খুলে নিয়ে গেছে। জানালা—দরজাহীন এই স্থাপনাটি এখন একটি ভগ্নপ্রায় কাঠামো ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্মাণের পর থেকেই কোনো কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ কার্যত জলে গেছে। এলাকাবাসীর মতে, এই একাডেমি চালু হলে এলাকার ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর ছেলে—মেয়েরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো। বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় এখন তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকুল স্নাল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য নির্মিত এই একাডেমি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে কার্যক্রম চালু না হলে এ জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়বে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।” কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “এটি শুধু একটি অবকাঠামোর ক্ষয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার অপচয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়া উদ্বেগজনক।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভবনটি পুনরুদ্ধার ও কার্যক্রম চালু করা।” সার্বিক বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, “বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকাশে যে উদ্যোগটি সম্ভাবনার দ্বার খোলার কথা ছিল, তা আজ অবহেলায় ধ্বংসের পথে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই স্থাপনাকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে— এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর