দৈনিক দেশকন্ঠস্বর-নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার গুমুরিয়া গ্রামের রিনা বেগমের জীবনে যেন দুঃখের শেষ নেই| প্রায় চার মাস আগে একটি ছোট ঘূর্ণিঝড়ে তার জরাজীর্ণ বসতঘরের চাল উড়ে যায়| এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তার| স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য ভিটাটুকুই এখন তার একমাত্র সম্বল কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘ চার মাসেও ঘরটি মেরামত করতে পারেননি তিনি| ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে দুটি খাট এবং কয়েকটি ভাঙা টিনের টুকরো| বসবাসের উপযোগী কোনো পরিবেশই সেখানে নেই|
বৃষ্টি এলেই ভিজে যায় ঘরের ভেতর| দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের সামনে বসে কাটান রিনা বেগম| রাতে বৃষ্টি হলে আশ্রয় নেন পাশের বাড়িতে, আর না হলে ভাঙা ঘরেই কোনোভাবে রাত পার করেন| চার সন্তানের জননী রিনা বেগমের পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত করুণ| তার এক ছেলে আত্মহত্যা করেছে| বাকি তিন ছেলের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন এবং দুইজন বাকপ্রতিবন্ধী| একমাত্র মেয়েকে পাশের বাড়িতে বিয়ে দিয়েছেন| মেয়েটি সুযোগ পেলেই মায়ের খোঁজখবর নেয়, তবে নিজের সংসারের সীমাবদ্ধতার কারণে খুব বেশি সহায়তা করতে পারে না| অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে রিনা বেগম উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহায়তার আবেদন করেছিলেন| তবে আবেদন করার পরও কোনো সহযোগিতা পাননি| আবেদনটির বর্তমান অবস্থাও তিনি জানেন না| বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করার মতো সামর্থ্য বা সহযোগী কেউ তার পাশে নেই|রিনা বেগম বলেন, আমি খুব কষ্টে আছি| আমার ঘরে থাকা দুটি চৌকি বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে| সারাদিন ঘরের সামনে বসে থাকি|
রাতে বৃষ্টি হলে পাশের বাড়িতে গিয়ে ঘুমাই, না হলে এখানেই পড়ে থাকি| একবেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়| আমার সন্তানগুলো প্রতিবন্ধী| তাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে| এলাকাবাসীর দাবি, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়া উচিত| তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির ছাড়া সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে| রিনা বেগমের তেমন কেউ নেই বলেই হয়তো তিনি এখনও সহায়তা থেকে বঞ্চিত| দ্রুত জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা| স্থানীয় বাসিন্দা জইনউদ্দিন মিয়া বলেন, এই মহিলার ঘরটি চার মাস আগে ঝড়ে ভেঙে গেছে| এরপর থেকে তিনি খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন| পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর| স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম রিপন বলেন, আমি নিজে সঙ্গে থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি সহায়তার আবেদন করেছি| কিন্তু বারবার যোগাযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত পরিবারটিকে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয়নি| বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, আমরা হয়তো সামান্য টিন দিয়ে পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে পারি| তবে বর্তমানে টিন নেই| বরাদ্দ আসলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে|
Leave a Reply